13/08/2017
বর্তমানে ঢাকা শহরের রাস্তায় চলাচলের জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ৩১৭টি গাড়ির নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীতে নিবন্ধিত মোটরগাড়ির সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার ৩৯২টি। আর সারা দেশে গাড়ি আছে ২২ লাখ ১৪ হাজার ১৭টিরও বেশি। এই লাখ লাখ গাড়ির জন্য দক্ষ জনশক্তির সংখ্যা অনেক কম। তাই এই বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় সেক্টরে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেশি। এ বিষয়ে পড়ালেখা করে তাই সাধারণতই চাকরির জন্য বসে থাকতে হয় না। এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন, শামীম ফরহাদ
কাজের ধরন
একজন অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারকে গাড়ি তৈরি থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত সব সমস্যা সমাধান করতে হয়। অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভাগ রয়েছেÑ প্রডাকশন, সেলস ও সার্ভিসিং।
প্রডাকশন ক্ষেত্রের কাজে আবার কয়েকটি ভাগ রয়েছে। যেমনÑ ডিজাইন, ড্রয়িং ও ক্যালকুলেশন। হাইস্কিল ইঞ্জিনিয়াররাই মূলত প্রডাকশন ডিভিশনে এসব কাজ করে থাকেন। সেলস ডিভিশনে গাড়ি বিপণন, বিক্রয় ও বিতরণ-সংক্রান্ত কাজ করা হয়। এ ডিভিশনে ভালো করতে ও কারিগরি জ্ঞান খুব ভালো থাকতে হয়। এ ডিভিশনের জনবলের দায়িত্ব গ্রাহকের চাহিদা বুঝে সে অনুযায়ী গাড়ি বাছাই করে তার ইঞ্জিন ও অন্যান্য বিষয়ে সার্বিক তথ্য গ্রাহককে অবহিত করার। অন্যদিকে সার্ভিসিং বলতে মূলত ওয়ারেন্টি বা সার্ভিস ফির মাধ্যমে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মেরামত ও সার্ভিসিং করার কাজ বোঝানো হয়।
কাজের ক্ষেত্র
সময়ের চাহিদা অনুসারে দেশে অটোমোবাইল শিল্পে কাজের ক্ষেত্র এখন অনেক বিস্তৃত। সুযোগ রয়েছে দেশের বাইরেও কাজ করার। দিন দিন যেভাবে ইঞ্জিনের ব্যবহার বাড়ছে, তাতে দক্ষ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির চাহিদা আরও বাড়বে। বর্তমানে আমাদের দেশে ২৫টিরও বেশি গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং ১৩৭টিরও বেশি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারক ও ডিলার রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত বিদেশ থেকে গাড়ি আমদানি করছে এবং এ শিল্পকে সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করছে। আমাদের দেশে গাড়ি উৎপাদনের সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে।
আয়-রোজগার
সদ্য পাস করা অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানভেদে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন। একজন দক্ষ অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারের বেতন সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা হয়ে থাকে। এ ছাড়া গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানিতে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ন্যূনতম বেতন ১ লাখ টাকার বেশিও হতে পারে। মূলত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করবে বেতন। আর দেশের বাইরে কাজের সুযোগ তো রয়েছেই।
আত্মকর্মসংস্থান
অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে পড়ালেখা করে নিজ উদ্যোগে সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা যায়। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ পুঁজি সংগ্রহ করতে পারবেন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকেও। প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ করতে পারলে এ খাতে দেশের প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ দেবে। সে ক্ষেত্রে সব খরচ মিটিয়ে স্থানভেদে মাসে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (বিকেটিটিসি)
বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার হচ্ছে কোরিয়ান সাহায্যে স্থাপিত বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। এ প্রতিষ্ঠান থেকে অটোমোবাইলের ওপর ট্রেনিং নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে বর্তমানে কর্মরত আছেন শত শত শিক্ষার্থী। তাছাড়া শান্তি মিশনে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্যরা এখান থেকে ট্রেনিং নিতে আসেন।
ভর্তির সময়
বছরে দুবার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় এখানে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ও জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন লেবেল শেষ করার পর যোগ্যতা সনদ দেওয়া হয়। তবে কোর্স ছাড়াও বিভিন্ন খ-কালীন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা আছে। তিনটি ক্রাইটেরিয়ায় অটোমোবাইলে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয় বিকেটিটিসিতে।
ছয় মাসের কোর্স
অটোমোবাইলের ওপর হালকা ট্রেনিং নিয়ে গ্যারেজে কাজ করার জন্য তৈরি হতে ন্যূনতম ছয় মাসের একটি কোর্স করতে পারেন। বয়সের কোনো মাপকাঠি এ কোর্সের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। এ কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য অষ্টম শ্রেণি পাস হলে ভালো হয়। তাছাড়া কর্মজীবী পুরুষ কিংবা ড্রপআউটরাও ভর্তি হতে পারে। কোর্স শেষ করার পর সেমি স্কিল টেকনিশিয়ান হিসেবে অটোমোবাইল গ্যারেজে চাকরির যোগ্যতা অর্জন হবে। অভিজ্ঞতার ফলে ধীরে ধীরে লেভেল পরিবর্তন করে ছয় লেভেলের অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানও হতে পারবে।
এক বছরের কোর্স
অটোমোবাইলে আরেকটু ভালো করতে হলে এক বছরের কোর্সে ভর্তি হতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস এবং বয়স সর্বোচ্চ ১৮-এর মধ্যে হতে হবে। কোর্স শেষে জুনিয়র টেকনিশিয়ান হিসেবে যে কোনো কারখানায় বা ওয়ার্কশপে যোগদান করা যাবে।
দুই বছরের কোর্স
সবচেয়ে লম্বা কোর্স হল দুই বছরের। যারা এ কোর্সে ভর্তি হবে তাদের জেএসসি বা জেডিসি পাস হতে হবে। অন্যান্য কোর্স থেকে এ কোর্সের সুবিধা হলো দুই বছর পর কোর্স সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি জেনারেল সার্টিফিকেট পাবে এবং উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় চাকরির একটি সুযোগ তৈরি হবে। এখান থেকেও উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ আছে।
যোগাযোগের ঠিকানা
বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (বিকেটিটিসি)
দারুসসালাম, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
ফোন : ৯০০০১৮৬
ডিপ্লোমা-ইন অটোমোবাইল টেকনোলজি
আমাদের দেশে যে পরিমাণ গাড়ি ও অটোমোবাইল সার্ভিস সেন্টার রয়েছে, কিন্তু সে তুলনায় অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা অনেক কম। তাই এ সেক্টরে এ কাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া ডিপ্লোমা-ইন অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা এখনো আমাদের দেশে নতুন। তাই সুযোগ রয়েছে এ বিষয়ে পড়াশোনা করে সহজে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন অটোমোবাইল টেকনোলজিতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম এসএসসি বা সমমানের পাস হতে হবে। এ বিষয়ে মেয়েদেরও পড়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোর্স করতে সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা করতে খরচ লাগবে প্রায় ৩ লাখ টাকা। দুটি সরকারিসহ মোট আটটি ইনস্টিটিউটে এ বিষয়ে পড়ার সুযোগও রয়েছে।
সরকারি ইনস্টিটিউট
অটোমোবাইল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, তেজগাঁও, ঢাকা-১২০৮।
বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কাপ্তাই, রাঙামাটি।
বেসরকারি ইনস্টিটিউট
বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। ই-৩৯৫, হাতেম খাঁ তমিজউদ্দিন রোড, রাজশাহী।
সাকিনা আজহার টেকনিক্যাল কলেজ, মূলঘর, ফকিরহাট, বাগেরহাট।
শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ১৬/সি-ডি, ব্লক-ডি, নূরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭।
চট্টগ্রাম শাখা : ১৩২ নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম।
মটর্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, পল্লবী, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২১৬।
মিরপুর পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, ৩২৩, ৩৩১, আহম্মদনগর, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬।
চিটাগাং টেকনিক্যাল কলেজ, ১২৯ মুরাদপুর, বিশ্বরোড, চট্টগ্রাম।