03/02/2021
জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট একটি বই!
সানজু ছিলেন চিঈ রাজ্যের বাসিন্দা ও রাজা হো-লু এর সেনাপতি। খ্রিস্টের জন্মের ৫০০ বছর আগে তার বাঁশের চাটাই এর উপর যুদ্ধের কলাকৌশল সম্পর্কে লেখা বই দ্য আর্ট অব ওয়ার।এই বইটিতে সানজু যুদ্ধ পরিকল্পনা, মেনুভার,আক্রমন কৌশল,যুদ্ধ পরিস্থিতি, যুদ্ধের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতা,গুপ্তচর নিযোগসহ যুদ্ধের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ন বিষয় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে।এছাড়া এই বইয়ে আছে কিছু যুদ্ধের ঘটনা ও যুদ্ধ জেতাতে জেনারেলদের কৌশল ও ভুমিকা এবং যুদ্ধে পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ।খ্রিস্টের জন্মের ৫০০ বছর আগে সমরবিদ্যায় সানজুর এমন জ্ঞান আমায় অবাক করেছে।
অনেকে মনে করে,যুদ্ধের উপর পড়াশুনা করে কি লাভ?
তাদের প্রশ্নের উত্তর সানজু দিয়েছেন এইভাবে,
“যুদ্ধ একটি রাষ্টের পরম গুরুত্বপূর্ন বিষয়।কারন এটা হলো জীবন অথবা মৃত্যুর প্রশ্ন,এ পথ বেঁচে থাকবার অথবা সর্বনাশের।তাই পুঙ্খানুপঙ্খভাবে যুদ্ধবিদ্যা অধ্যায়ন অবশ্যক।অনেকে এখন ভাবতে পারে আমি তো যুদ্ধের সাথে জড়িত না,তবে আমি কেন এই বই পড়বো?তাদের উদ্দেশ্য বলবো,কে যুদ্ধ করে না?পাশাপাশি দুই ফুচকাওয়ালার ভেতরও যুদ্ধ চলে,ক্লাসে রোল ১ এর সাথে ২ এর যুদ্ধ চলে।প্রতিটা মানুষজীবন যুদ্ধের সাথে জড়িত।সমর যুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশলের সাথে,জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ের কৌশলের সামঞ্জস্য খুঁজতে এই বইটা আপনাকে সাহায্য করবে।
আগে যুদ্ধ হতো ঢাল-তলোয়ার-তীর-বল্লম নিয়ে।আধুনিকতার সাথে যুদ্ধের অস্ত্রেরও বদল হয়েছে,তবুও অনেকে এই বই পড়ে।সেনাবাহিনীরা বেশি পড়ে,ব্যাবসায়ী ও স্ট্র্যাটেজিস্টরা পড়ে।এখন যদি নিজের ভেতর প্রশ্ন জাগে, কেন পড়ে?
তবে এখনই উত্তম সময় বইটি হাতে তুলে নেওয়ার ।
ভাল লাগার কয়েকটি লাইনঃ-
১)একজন আলোকিত শাসক হয় পরিণামদর্শী, আর বিচক্ষণ জেনারেল হয় সাবধানী।
২)গৌরব কখনো লক্ষ্য হতে পারে না,গৌরব হলো কৃতকর্মের ইতিবাচক ফল।
৩)দূরদর্শিকতা আধ্যাত্মিক সাধনা থেকে আসে না,অভিজ্ঞতা থেকে ও আসে না,এমন কি নির্ভুল হিসেব কষেত পাওয়া যায় না।এজন্য চাই সঠিক তথ্য।
৪)যুদ্ধ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যে কোন যুদ্ধের নৈপথ্যে কুটনৈতিক ব্যর্থতা একটি বড় কারণ।©অভ্রনীল
মাত্র ১১০ টাকায় বইটি সংগ্রহ করতে ম্যাসেজ দিন...