25/01/2023
যোগাসন
আসন মূলত দেহের একটি ভঙ্গি, মূলত এবং বসে বসে ধ্যানের মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট বা বিশেষ ভঙ্গিতে বিন্যস্ত বা স্থাপিত করে কিছুক্ষণ অবস্থান করার প্রক্রিয়াই হলো আসন।
দশম বা একাদশ শতাব্দীর গোরক্ষ সাতক এবং পনের শতাব্দীর হাথ যোগ প্রদীপিকা থেকে তিনি ৮৪টি আসন চিহ্নিত করেন; ১৭ শতাব্দীর দিকে হাথা রত্নাবলি ৮৪ টি আসনের একটি আলাদা তালিকা সরবরাহ করেছেন, যার কয়েকটি বর্ণনা রয়েছে। বিংশ শতাব্দীতে, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ উপনিবেশবাদের প্রতিক্রিয়া হিসাবে শারীরিক সংস্কৃতির পক্ষে ছিল।
আসন শব্দের সাধারণ অর্থ হলো― যার উপর উপবেশন করা যায়। যেমন চেয়ার, মাদুর, টুল ইত্যাদি। যোগশাস্ত্রে আসনের ভিন্নতর অর্থ বহন করে।হঠযোগের সাধনার জন্য যে সাতটি সাধনবিধি আছে, তার একটি বিধি হলো দৃঢ়তা। এই দৃঢ়তাকে ধারণ করার প্রক্রিয়াকেও আসন বলা হয়।
যোগাসনের মাধ্যমে দেহকে সুস্থ, নমনীয় ও সহনশীল করা হয়। এর জন্য কিছু বিধিবদ্ধ দেহভঙ্গিমাকে অনুসরণ করা হয়। যোগীরা দেহকে ধ্যানের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য আসনের চর্চা করতেন। যোগীরা বহুবিধ দেহ ভঙ্গিমার বিন্যাস-চর্চার মধ্য দিয়ে নানা ধরনের আসনের চর্চা করেছেন। ধ্যান দ্বারা অভীষ্ট লক্ষে পৌছার জন্য দেহকে বিশেষ ভঙ্গিমায় স্থাপন করলে, ধ্যানের প্রগাঢ়তা বাড়ে।
একই সাথে উক্ত ভঙ্গিমা বা আসনের জন্য দেহেরও কিছু উপকার হয়। প্রাচীন ভারতের ঋষিরা পরমব্রহ্মার সাথে মিলনের জন্য বা পরমব্রহ্মে বিলীন হওয়ার জন্য যোগাসনে বসতেন। কিন্তু একালের অধিকাংশ মানুষ, যোগাসনের চর্চা করেন স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য।
যোগশাস্ত্রে আসন সংখ্যা নিয়ে মতভেদ আছে। ঘেরণ্ডসংহিতা মতে― মহাদেব চুরাশি লক্ষ আসনের কথা বলেছেন। তবে এর ভিতর ষোল শত আসন উৎকৃষ্ট। এর ভিতর আবার ৩২টি আসন মানুষের জন্য কল্যাণকর। যোগাসনকে মূলত দুটিভাগে ভাগ করা হয়। এই ভাগ দুটি হলো― ধ্যানাসন ও স্বাস্থ্যাসন। ধ্যানের দ্বারা পরমেশ্বরকে পাওয়ার উপযোগী আসনকে ধ্যানাসন বলা হয়। এর সংখ্যা ২৮টি। পক্ষান্তরে স্বাস্থ্য উদ্ধার ও শরীরর সুস্থ রাখার জন্য আসন হলো―স্বাস্থ্যাসন। এর সংখ্যা ৫৬টি। সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৪টি।
আজকে একটি আসনের উপকারিতা এবং কিভাবে আসন টি করতে হয় ছবি সহ পোষ্ট করলাম যাহাতে আপনাদের বুঝতে সুবিধা হয়.......
আসনটির নাম - পদ্মা আসন
আসনটির উপকারিতা ঃ- পায়ের পেশিতে যদি ব্যথা বা দুর্বলতা থাকে, হাঁটুতে ও পায়ের সংযোগ স্থলে ব্যথা থাকলে আথবা অল্প হাঁটলে হাঁফ ধরে গেলে এই আসনটি উপকারে লাগতে পারে । সিঁড়িতে উঠতে গেলে কষ্টবোধ করা, মেরুদণ্ডের আড়ষ্টভাব, অনিদ্রায় ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে এই আসন খুবই ফলদায়ক।