30/05/2026
আসসালামু আলাইকুম।
ঈদের আনন্দ শুধু নতুন পোশাক বা কোলাহলে আটকে থাকে না; কখনও কখনও সেই আনন্দ লুকিয়ে থাকে দুই চাকার শব্দে, প্রিয় মানুষের সঙ্গ আর মুক্ত আকাশের নিচে হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে। ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনের বিকেল টা ঠিক তেমনই ছিল।
আমার শখের আবার উপার্জনের সঙ্গী—প্রিয় ফ্যাল্কন বাইকটাকে নিয়ে বের হয়েছিলাম এক অন্যরকম যাত্রায়। সঙ্গে ছিলেন বাইকার মাসুম ভাই আর ফয়সাল চাচা। শহরের ব্যস্ততা আর ক্লান্তি পেছনে ফেলে আমরা ঢুকে পড়েছিলাম গহীন গ্রামের পথে, যেখানে মানুষের কৃত্রিমতার চেয়ে প্রকৃতির ভাষা অনেক বেশি সত্য আর শান্ত।
পিচঢালা রাস্তার প্রতি আমার আলাদা এক ভালোবাসা আছে। সেই রাস্তা যেন শুধু গন্তব্যে পৌঁছে দেয় না, বরং মনের ভেতরে জমে থাকা অজস্র চিন্তা আর অব্যক্ত কষ্টও ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে নেয়। ফ্যাল্কনের ইঞ্জিনের মৃদু শব্দ, বাতাসের স্পর্শ আর সামনে দীর্ঘ রাস্তা—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল জীবন আবার নতুন করে কথা বলছে।
গ্রামের সরু রাস্তার দুপাশে সবুজ ধানক্ষেত, কোথাও তালগাছ, কোথাও খোলা মাঠ, আবার কোথাও ছোট ছোট ঘর—সবকিছু মিলিয়ে এক অপূর্ব দৃশ্য। মাঝে মাঝে থেমেছি, চা খেয়েছি, গল্প করেছি আর মানুষের সহজ-সরল হাসি দেখেছি। শহরের ব্যস্ত জীবনে এমন আন্তরিকতা খুব কমই চোখে পড়ে।
এই সফরের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল বাবার কিছুটা সুস্থতার খবর মনে নিয়ে চলা। দীর্ঘ দুশ্চিন্তা আর মানসিক চাপের ভেতর দিয়ে যাওয়ার পর বাবার অবস্থার সামান্য উন্নতিও হৃদয়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়। মনে হচ্ছিল, আজকের এই যাত্রা শুধু ঘুরতে বের হওয়া নয়, বরং নিজের ভেতরের ক্লান্ত মানুষটাকে একটু সুস্থ করে তোলার চেষ্টা।
মাসুম ভাইয়ের হাসি আর ফয়সাল চাচার অভিজ্ঞ গল্প পুরো পথটাকে আরও জীবন্ত করে তুলেছিল। আমরা বুঝলাম, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলো অনেক সময় দামি আয়োজনের মধ্যে নয়; বরং প্রিয় মানুষের পাশে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে আর নিজের ভালোবাসার পথে খুঁজে পাওয়া যায়।
দিন শেষে যখন ফিরে আসছিলাম, সূর্য ধীরে ধীরে অস্ত যাচ্ছিল। পিচঢালা রাস্তার ওপর সেই আলো পড়ে মনে হচ্ছিল, জীবন যত কঠিনই হোক, সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবসময়ই একটি রাস্তা খোলা থাকে। আর সেই রাস্তার সঙ্গী যদি হয় প্রিয় বাইক, কিছু ভালো মানুষ আর একটু আশা—তবে স্ট্রেসও একসময় হেরে যায়।