01/03/2026
২/৪ দিন আগে husband একজনের কথা বলছিলেন,যিনি তাঁর ছেলের জন্য এবং ছেলের পড়াশোনার জন্য ভীষণ serious
কিন্তু মেয়ের ব্যাপারে, বিশেষ করে তার পড়াশোনার ব্যাপারে ভীষণ উদাসীন।
তখন আমি বললাম,"কি হবে মেয়েটার পড়াশোনা করে?? যেটুকু প্রয়োজন করছে তো, enough....
বিয়ের পরের জীবন তো সেই চুলা-চাক্কি,হান্ডি- ডেকচি নিয়েই কাটবে"
আমার এই কথা শুনে যেকোনো ভালো মানুষ ভাববে, শিক্ষিত একটা মহিলা হয়ে আমি এতটা সেকেলে ধারণা কিভাবে কাজ করে আমার মধ্যে???????
পরিস্থিতির কারণে , চারপাশের মানুষের মুখোশধারী আচরণ এর কারণে আমার মধ্যে এধরনের ধারণা লালিত হচ্ছে।
মেয়েটা যখন বড় হবে তার মধ্যে নিজেকে নিয়ে স্বপ্নেরা ডানা মেলবে।
নিজেকে নিয়ে সে অনেক দূর ভাববে।
Life এ কিছু একটা হতে চাইবে।
টাকার জন্য নয়, নিজের মেধা, নিজের পরিশ্রম, সময়, dedication সবকিছুর একটা বিনিময়ে সাফল্য চাইবে।
স্বপ্নের মাঝপথে মেয়েটার যখন বিয়ে হয়ে যাবে,তখন তার জীবন টা একদম পাল্টে যাবে।
যেন মেয়েটার 'বিয়ে' হয়নি,তাকে খাঁচায় বন্দী করে পোষ মানানোর জন্য আনা হয়েছে।
তাকে বলা হবে " এখন তোমার পড়াশোনা করার সময় না, তোমার বাচ্চার পড়াশোনা নিয়ে ভাবো"
তাকে প্রতিটা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার আগে ঘরের কাজ, রান্না,আর বাচ্চা সামলানোর পর একটু সময় বের করতে হবে কোনরকম পাশ মার্ক আনার জন্য😢
তাকে struggle করতে হবে "অমুক মুখ কেন ভার করলো?"
"ঘরের কোনো দায়িত্ব পালনে চুক হলো কিনা?"
কেউ কথা বলছে না কেন?
মেয়েটা পৃথিবীর যেই প্রান্তেই থাকুক,দৌড়ে,উড়ে আসবে সেসব hypocrite দের রাগ ভাঙাতে,
মেয়েটা জানবেই না কখোনো,যে আজীবন এদের পা ধরে বসে থাকলেও মেয়েটা কোনোদিন ও এদের মনে এতটুকু সহানুভূতি পাওয়ার ও যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না।
সব কষ্টের চেয়ে বড় কষ্ট যার (স্বামী) হাত ধরে সেই মেয়েটি তার নতুন স্বপ্নের ঠিকানায় যাবে,যাকে মেয়েটা তার পুরো পৃথিবী ভাববে,তার super hero ভাববে,যে তাকে সমস্ত অন্যায় থেকে হেফাজত করবে, রক্ষা করবে,
সে- ই super hero সবার আগে হাত টা ছেড়ে দিবে।
সে-ই সবার আগে মেয়েটার সাথে অন্যায় করবে।
তারপর তার মনে হবে আমার তো বাবা আছে,মা আছে,ভাইয়েরা আছে।
আমার তো আরেকটা পৃথীবী আছে।
কিন্তু যখন সেই পৃথিবীতে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে নিজের জায়গা খুঁজতে যাবে,দেখবে এখানে তার জন্য যে ছোট্ট একটা জায়গা ছিল,সেটা মুছে গেছে।
তাকে বলা হবে তোমার জায়গা এখন তোমার নতুন পৃথিবী তে।তাকে পরিষ্কার বুঝিয়ে দেয়া হবে -
এখানে শুধু বেড়াতে আসবা।তাও বেশিদিনের জন্য নয়।
তারপর মেয়েটার ঘোর কাটবে। তখন সেই মেয়েটা বুঝবে আরেহ আমার বাবাই তো সঠিক ছিলেন,যিনি আমাকে নিয়ে এতটা ভাবতেনই না,
আমার আত্মীয় স্বজনেরাই তো ঠিক ছিলেন, যাঁরা বলতেন, মেয়েদের এতো পড়াশোনার দরকার কি???
আমার চারপাশের মানুষেরাই সঠিক ছিলেন যাঁরা মুচকি হেসে তাচ্ছিল্য করতেন,
একটা স্বপ্ন দেখা ,carrier oriented মেয়ে আস্তে আস্তে পোষ মানা শুরু করবে।
সে জানবে,বুঝবে,মানবে " আমার বলে এখানে কিছু নেই,কেউ নেই............😢
পুরো পৃথিবী টা তার কাছে"ধুলোবালিময় মরুভূমির"
চেয়ে বেশি কিছু মনে হবে না।
Moral of the story is:" স্বপ্ন দেখিয়ে সেটা ভেঙ্গে দেয়ার চাইতে, স্বপ্ন দেখার সুযোগ দেয়ার ই প্রয়োজন নেই "😢