14/03/2022
নিম্নে টার্বোচার্জার নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো-
➤ প্রশ্নঃ টার্বোচার্জার কী?
উত্তরঃ টার্বোচার্জার হলো গাড়ির ইঞ্জিনে লাগানো একটি ডিভাইস যা গাড়ির পাওয়ার বা ফুয়েল এফিসিয়েন্সি বাড়াতে পারে। টার্বোচার্জারকে সংক্ষেপে "টার্বো" ও বলা হয়ে থাকে।
➤ প্রশ্নঃ টার্বোচার্জার কীভাবে কাজ করে?
উত্তরঃ একটি টার্বোচার্জারে সাধারণত দুটি টারবাইন থাকে। গরম এক্সাস্ট গ্যাস একটি টারবাইনকে ঘুরিয়ে দেয় যা অপর টারবাইনের সাথে সংযুক্ত থাকে। তখন অপর টারবাইনটি বায়ু চুষে নেয় এবং ইঞ্জিনের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়া ইঞ্জিনকে অতিরিক্ত শক্তি দেয় কারণ ইন্জিনে যত বেশি বাতাস যেতে পারে, তত বেশী জ্বালানী যোগ করা হয়। আর ইন্জিন যত বেশী জ্বালানী পোড়াতে পারবে, গাড়ি ততো বেশি পাওয়ার পাবে।
➤ প্রশ্নঃ টার্বোচার্জারের সুবিধাগুলো কী কী?
উত্তরঃ অতিরিক্ত শক্তি ছাড়াও, টার্বোচার্জারগুলিকে কখনও কখনও এমন ডিভাইস হিসাবে উল্লেখ করা হয় যা "ফ্রি পাওয়ার" অফার করে কেননা এটিতে ইঞ্জিনের কোনো শক্তি ব্যবহার হয় না যেখানে সুপারচার্জার ইঞ্জিনের শক্তি ব্যবহার করে। ইঞ্জিন থেকে বেরিয়ে আসা গরম এক্সাস্ট গ্যাস টার্বোচার্জারকে শক্তি দেয় তাই ইঞ্জিনের পাওয়ারের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
এছাড়াও টার্বোচার্জার একটি গাড়ির ফুয়েল এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করে। টার্বোচার্জিংয়ের পরেও যেভাবে গাড়ির ফুয়েল এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করা হয় তা হলো, ইঞ্জিনের আকার কমিয়ে আনা এবং তারপরে টার্বোচার্জ করা। উদাহরণস্বরূপ, একটি 2.5L (2,500cc) ইন্জিনের গাড়ি নিন এবং এর ইঞ্জিন পরিবর্তন করে 1.4L (1.400cc) এর টার্বোচার্জড ইন্জিন বসান। দেখবেন যে, ছোট 1.4L টার্বোচার্জড ইঞ্জিন এ এখন 2.5L ইন্জিনের সমান শক্তি পাবেন। তবে ইন্জিন ছোট হওয়ায় গাড়ি এখন পূর্বের তুলনায় কম তেল খাবে।
➤ প্রশ্নঃ টার্বোচার্জারের অসুবিধাগুলো কী কী?
উত্তরঃ টার্বোচার্জারের 2টি প্রধান অসুবিধা রয়েছে।
প্রথমত, যেহেতু একটি টার্বোচার্জার গরম এক্সাস্ট গ্যাস দ্বারা চালিত হয়, তাই এটি খুব গরম হয়ে যায়। কখনও কখনও টার্বোচার্জার নিজেই লাল হয়ে যায় এবং আগুনে জ্বলতে শুরু করে। তবে এটি তখনই হয় যখন ইঞ্জিনকে অনেক হাই আরপিএম এ একটানা অনেক সময় চালানো হয়। এই কারণেই কিছু টার্বোচার্জড স্পোর্টস কার এর হুডের মঝে বা পাশে ভেন্ট দেখা যায়। এই ভেন্টগুলো রাখা হয় যাতে বাতাস গিয়ে টার্বোকে ঠান্ডা করতে পারে।
দিতীয়ত, টার্বোচার্জারের আরেকটি বড় অসুবিধা হল টার্বো ল্যাগ। আপনি যখন এক্সেলেটরে চাপ দিবেন, তখন সাথে সাথে পাওয়ার পাবেন না। ২/৩ সেকেন্ড পর পাওয়ার পাবেন। আর এটাকেই বলে টার্বো ল্যাগ। যখন ইঞ্জিনের গতি কম থাকে, তখন টার্বোচার্জারের মধ্য দিয়ে প্রচুর এক্সাস্ট গ্যাস যায় না।
তাই আপনি যখন ইঞ্জিন থেকে পাওয়ার ডিমান্ড করেন, তখন টার্বোচার্জার এর টারবাইনকে সর্বোত্তম গতিতে ঘুরতে শুরু করতে কিছুটা সময় দরকার হয়। তবে নিম্ন গিয়ারে নামানোর মাধ্যমে এর প্রভাবগুলি কিছুটা হ্রাস করা যায়।
Thanks. 🖤
CREDIT- Car Alliance BD.