27/03/2025
Life lesson
আমি যখন ড্রাইভিং শিখি, তখন একটা ভিডিওতে খুব চমৎকার একটা অ্যাডভাইস পেয়েছিলাম। ইন্সট্রাক্টর বলেছিলেন, একটা ড্রাইভ টেস্টে তুমি স্পিড লিমিটের মধ্যে থাকতে পারো কিনা সেটা দেখা হয়।
আশপাশের বেশির ভাগ ড্রাইভার সে লিমিটের মধ্যে থাকে না। অন্তত ৫-১০ কিমি বেশি গতিতে চালায়। অবচেতনভাবেই তুমি যদি তোমার সামনের গাড়িকে ফলো করো, তুমিও তার স্পিডেই চলতে শুরু করবে।
তার ওপর তোমার পাশ দিয়ে যখন হুশ করে সব গাড়ি বেরিয়ে যাবে, মনে হবে তুমি স্লো যাচ্ছ। তোমার ইন্সটিংক্ট হবে স্পিড বাড়িয়ে তাদের গতিতে চলা। কিন্তু সেটা করলে তুমি টেস্টে ফেইল করবে স্পিড লিমিট মানতে না পারার জন্য।
কাজেই তোমার জন্য সবচে জরুরী কাজ হবে আশপাশের সবকিছু যখন তোমাকে স্পিডিং করতে বলবে, তুমি সেই ইচ্ছাকে দমন করে নিজের মতো, স্পিড লিমিটে থেকে ড্রাইভ করবে।
এই কথাটা যে কি অদ্ভুত সত্যি! লাইসেন্স পাবার পর এটা আরও বেশি খেয়াল করেছি আমি। সবাই যখন পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, মনে হয় কি রে ভাই? আমি কি খুব আস্তে যাচ্ছি নাকি?
অথচ আমি নিজেও কিন্তু ঠিক স্পিডেই যাচ্ছি। এবং মজার ব্যাপার হল, একটু সামনে গিয়ে দেখি রেড লাইটে আমার মতোই আটকে আছে স্পিডিং করা বা আমাকে কাট অফ করে চলে যাওয়া ড্রাইভার।
আমার স্বভাব সব কিছু থেকে নানারকম শিক্ষা নেয়া। এই ব্যাপারটা আমাকে রোজ মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, আমার অন্য কারো গতিতে জীবন কাটাবার কোন দরকার নেই।
যাকে দেখে মনে হয় সে অনেক দ্রুত তার লক্ষে পৌঁছে যাচ্ছে, সেও বিভিন্ন জায়গায় আটকে থাকবে। তার মনে হবে কেউ তার চেয়েও দ্রুত চলে যাচ্ছে। কেবল সেই যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে না। এই রেস চক্রের মতো চলতেই থাকে। এর কোন শেষ নেই।
অথচ দিনশেষে এই স্পিড আসলে অতটা ম্যাটার করে না। ম্যাটার করে সেইফ থেকে গন্তব্যে পৌঁছানো। আমাদের গন্তব্য যেহেতু এক না, এক স্পিডে, এক রুটে ড্রাইভ করতে যাওয়ার তো কোন মানেই হয়না।
এমনিতেও অনেক আগেই আমি কার আগে চাকরি পেলাম, কবে গাড়ি কিনলাম, বিয়ে করলাম, কার বাচ্চা কবে হল এসব তুলনা থেকে নিজেকে বের করে এনেছি ।
আজকে এই চিন্তাটা মাথায় আসায় মনে হল, ড্রাইভিং লেসনগুলো আসলে লাইফ লেসন ছিল। যদিও পাশ করে ফেলার পর আর একজ্যাক্ট লিমিটে চালানো হয়না, ট্রাফিক ফ্লো মেনে বাকিদের ঝামেলায় না ফেলে চলার ব্যাপার থাকে, তবু অন্যের অস্বাভাবিক স্পিডে/ খ্যাপামিতে নিজেকে অ্যাফেক্টেড হতে দিইনা। এটা মাথায় রাখি।
কত কি শিখি রোজ। আবার ভুলে যাই। এটা মনে রাখতে পারলে ভালো থাকা যাবে। তাই মনে রাখতে পারার জন্য লিখে ফেললাম। 🙂
লেখা: ©️Sincerely, Zana
(Repost! নির্দ্বিধায় শেয়ার করতে পারেন কিন্তু কপি পেস্ট করবেন না কাইন্ডলি 🙂)