16/08/2026
হুমায়ূন ফরীদি এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মিনুর সংসার ছিল সর্বসাকুল্যে ৪ বছরের। সেই সংসারে ফুটফুটে এক মেয়েরও জন্ম হয়েছিল।
কিন্তু ১৯৮৪ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁদের। সেই বছরেই হুমায়ূন ফরীদি অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে বিয়ে করে নতুন সংসার সাজিয়ে বসেন।
এই দৃশ্যটি দূর থেকে দেখার কষ্ট সহ্য করতে হয় মিনুকে।
সন্দেহ নেই, পৃথিবীর ভয়াবহতম কষ্টগুলোর একটি হলো নিজের প্রিয়জনকে অন্যের হতে দেখা।
আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবনে কখন, কীভাবে কোন ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষা দেবেন তা একমাত্র তিনিই ভালো জানেন।
যে কষ্ট হুমায়ূন ফরীদি তাঁর প্রথম স্ত্রী মিনুকে দিয়ে এসেছিলেন, সেই একই রকম কষ্ট ফিরে পেতে দুই যুগের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হলো না তাঁর—এমনটাই অনেকে এই ঘটনাকে দেখেন।
২০০৮ সালে ফরীদিকে ছেড়ে দিয়ে নিজের চেয়ে চৌদ্দ বছরের ছোট বদরুল আনাম সৌদকে বিয়ে করে ফেললেন সুবর্ণা মুস্তাফা।
এই দৃশ্যটি ফরীদিকে দেখতে হলো দূর থেকে, অনেক বছর আগে যেমনটি দেখেছিলেন তাঁর প্রথম স্ত্রী মিনু।
এবার আসি আরেক ঘটনায়!
বাংলাদেশের কোনো এক জেলায় সংঘটিত হওয়া একটি ঘটনা শুনে শিউরে উঠেছিলাম।
নিজের বাবাকে হ%র দায়ে ছেলেকে গ্রে%ফ%তার করা হয়েছে। হ% করার সময় সে ছিল মা%তা%ল। এক কো% শরীর থেকে মা- আলাদা করে ফেলেছে ছেলে।
পুলিশ তদন্তের পর জানা গেল আরেক ভয়ঙ্কর তথ্য। যে বাবাকে হ* করা হয়েছে, সেই ব্যক্তি অনেক বছর আগে তার নিজের মাকে খু% করেছিল।
মানুষের চোখে এটি যেন কর্মের পরিণতির এক ভয়াবহ উদাহরণ। তবে প্রকৃত বিচার ও সত্যিকার পরিণতি কী তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
হুমায়ূন আহমেদের একটি খুব জনপ্রিয় ছোটগল্পের নাম ‘পিঁপড়া’।
এই গল্পে দেখা যায় মকবুল নামে এক ধনী গৃহস্থকে সারাক্ষণই পিঁপড়া তাড়া করে। এর থেকে বাঁচার জন্য এহেন কোনো ব্যবস্থা নেই, যা সে করে না।
রাতে ঘুমানোর আয়োজনেও আনে বিশেষত্ব। খাটের চার পায়ার নিচে পানির পাত্র রাখার ব্যবস্থা রাখে, যেন পিঁপড়া না ওঠে।
কিন্তু কিছুতেই কোনো লাভ হয় না। সর্বশেষ এক চিকিৎসকের কাছে সে খুলে বলে তার বৃত্তান্ত।
তার বাড়িতে থাকা দুঃসম্পর্কের এক কিশোরী আত্মীয়াকে ধ% ণের পর হ% করেছিল সে। তার লা% ওঠা পিঁপড়াই প্রথম পিছু নেয়।
মানুষের চূড়ান্ত বিচারের জন্য আল্লাহ তাআলা পরকালের ব্যবস্থা রেখেছেন। তবে আল্লাহ তাআলা চাইলে মানুষের কিছু কর্মের পরিণতি দুনিয়াতেও দেখিয়ে দিতে পারেন।
আমরা আজ অন্যায়ভাবে কাউকে কষ্ট দিলে, আল্লাহ তাআলা চাইলে সেই অন্যায়ের পরিণতি আমাদের জীবনেও কোনো না কোনোভাবে ফিরিয়ে দিতে পারেন।
তাই কাউকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়ার আগে মনে রাখা উচিত আল্লাহ তাআলা সবকিছু দেখেন, সবকিছু জানেন এবং কোনো অন্যায়ই তাঁর অগোচরে নয়।
দুনিয়ার বিচার অনেক সময় আমাদের চোখে ধরা পড়ে, আবার অনেক অন্যায়ের বিচার আখিরাতের জন্য রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু আল্লাহ তাআলার বিচার থেকে কেউই রেহাই পাবে না।
কাজেই নিজের ব্যাপারে সতর্ক থাকাটা প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।😊